কিছুটা সাপ কিছুটা হাস! দুটি প্রাণীর মিশ্রণে ঘটিত এই পাখি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে অদ্ভুত দেখতে, না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না নিজের চোখকেও

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমাদের এই পৃথিবীর পরিবেশ মানুষ থেকে শুরু করে নানান ধরনের পশু পাখি নিয়ে গঠিত হয়েছে। এই পৃথিবীতে বহু রকমের পশু পাখির প্রজাতি রয়েছে যা হয়তো কম-বেশি অনেকেই জানেন না। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তার মধ্যেই কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রজাতি নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করতে চলেছি।।পৃথিবীতে দশ হাজারের বেশি প্রজাতির পাখির খোঁজ মিলেছে এখনও পর্যন্ত।

চারপাশে উড়তে থাকা এবং কিচিরমিচির করা পাখি দেখে চাপমুক্ত হয় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিছু পাখি রয়েছে যা একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলেই বসবাস করে থাকে; তবে পরিযায়ীরা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এরা বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করে একস্থান থেকে অন্য স্থানে যায়।বেশিরভাগ পাখিই সামাজিক জীব। এরা দৃষ্টিগ্রাহ্য সংকেত এবং ডাক বা শিষের মাধ্যমে একজন আরেকজনের সাথে যোগাযোগ করে।

পাখির অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। একদিকে যেমন অনেকেই বাড়িতে পোষ মারানোর জন্য পাখি নিয়ে এসে থাকেন ঠিক তেমনভাবেই পাখির মাংস হিসেবেও প্রচুর গুরুত্ব রয়েছে। এই সবকিছু মাঝেই আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা বিশেষ কিছু রকম পাখির প্রজাতি নিয়ে আলোচনা করব। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

১) আমাদের এই প্রতিবেদনের তালিকায় প্রথম পাখি হল স্কারলেট ম্যাকাও।এরা মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার চিরস্থায়ী আর্দ্র বনাঞ্চলের বাসিন্দা।ম্যাকাও প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বৃহত্তম ও সুন্দরতম সদস্য। উজ্জ্বল লাল, নীল ও হলুদ রঙের সমাহারে স্কারলেট ম্যাকাওয়ের মোহনীয় রূপ সকলকেই মুগ্ধ করে।

উল্লেখ্য,দক্ষিণ-পূর্ব মেক্সিকো থেকে আমাজনীয় পেরু ও বলিভিয়ায় এই পাখি বেশি দেখা যায়। কোইয়া দ্বীপেও রয়েছে বহু স্কারলেট ম্যাকাও। প্রায় 40 থেকে 45 বছরের মতো এই পাখিটি বেঁচে থাকতে পারে। মানুষের কন্ঠস্বর হুবহু নকল করার ক্ষমতায় পাখিদের মধ্যে রয়েছে এবং একে পৃথিবীর সবথেকে বুদ্ধিমান পাখি বলে অভিহিত করা হয়।

২) এবার আসা যাক গোল্ডেন ফিজ্যান্টের কথায়।গোল্ডেন ফিজ্যান্টের মাথায় ক্রেস্টের মতো দুর্দান্ত গোল্ডেন ফার্ন-সহ একটি প্রাণবন্ত লালচে-কমলা ঘাড় রয়েছে। এই পাখিটি মূলত চীনের পশ্চিমাংশে দেখা যায় বেশি।পাখিটি প্রায় ৯০-১০৫ সেমি পর্যন্ত বড় হয় এবং লেজের দৈর্ঘ্য পাখির আকারের দুই-তৃতীয়াংশ। জানিয়ে রাখি, গোল্ডেন ফিজ্যান্ট নামটি প্রাচীন গ্রীক শব্দ ‘খরাসোলোফোস’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘আঁকা’। চীনের মতন বেশ কয়েকটি জায়গায় এই পাখিটিকে কিন্তু খাবার হিসেবেও গ্রহণ করা হয়ে থাকে ।

৩)ফ্ল্যামিংগো হলো আমাদের এই তালিকার তৃতীয় পাখি।ফ্ল্যামিংগো নামটি পর্তুগিজ বা স্প্যানিশ শব্দ ‘ফ্লামেঙ্গো’ থেকে এসেছে, যার অর্থ বর্ণযুক্ত শিখা। ফ্লেমিংগোর শরীরে শিখার মতো স্তর দেখতে পাওয়া যায়। এরা খুব সহজেই কিন্তু অনেকটা দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং কোন সমস্যাই হয় না। এদের প্রত্যেক ঘন্টায় উড়ে যাওয়ার গতি প্রায় ৫৬ কিলোমিটারের বেশি।ফ্ল্যামিংগোকে ‘ওয়েডিং বার্ড’ও বলা হয়। সাঁতার কাটতেই অত্যন্ত পটু এরা। পৃথিবীতে এদের মোট ছটি প্রজাতি রয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন কেজি পর্যন্ত এই পাখিগুলোর ওজন থাকে।

৪)ব্লু জে হল আমাদের এই তালিকায় থাকা চতুর্থ পাখি। এই পাখিগুলো অত্যন্ত দুষ্ট স্বভাবের হয়ে থাকে এবং তাদের শরীরে নীল রঙের অত্যধিক প্রভাব থাকে। এরাও অন্যান্য পাখির বাসায় ডিম পাড়তে এবং হুবহু অনেক কথাকে নকল করতে পারে। তবে এ পাখির নিজস্ব বুদ্ধিমত্তার জন্যেও কিন্তু একটা আলাদা পরিচিতি রয়েছে। আমাদের দেশে এই পাখি খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না ‌।।

Back to top button