কয়েকমাস হলো চলে গেছেন ঐন্দ্রিলা! জানেন তার অন্তিম ইচ্ছা কি ছিল? শুনলে হাঁ হবেন আপনিও

নিজস্ব প্রতিবেদন: টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন ঐন্দ্রিলা শর্মা। বিগত দিনগুলোতে বিভিন্ন কারণের জন্য সংবাদ শিরোনামে ছিলেন তিনি। মাত্র ২৪ বছর বয়সের মধ্যেই পরপর দুবার ক্যান্সারের মতো মারন রোগ জয় এবং পরবর্তীতে ব্রেন স্ট্রোক এবং বারংবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার মত ঘটনা কিন্তু স্বাভাবিক নয়।

ক্যান্সার জয় করার পর যখন তিনি গত ১ লা নভেম্বর ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন অনুরাগীরা ভেবেছিলেন এবারেও হয়তো ফিনিক্স পাখির মতন ফেরত আসবেন নায়িকা। কিন্তু দীর্ঘ কুড়ি দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর ২০ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন ঐন্দ্রিলা শর্মা।কোনরকম ভাবেই কিন্তু তাকে আর আটকে রাখা যায়নি। মৃত্যুর মাসখানেক পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত অভিনেত্রীর স্মৃতি নিয়েই বেঁচে রয়েছেন তার পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে প্রেমিক সব্যসাচী এবং অসংখ্য অনুরাগীরা।

প্রকৃতির নিয়মে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে হয়েছে সকলকেই। ঐন্দ্রিলার দিদি ফিরে গিয়েছেন নিজের কাজের জায়গায়। অন্যদিকে ঐন্দ্রিলার বাবা-মা কুদঘাটের আবাসন ছেড়ে চলে এসেছেন বহরমপুরের বাড়িতে। তবে কেউ যেন কাজে মন বসাতে পারছেন না। ঐন্দ্রিলার মা শিখা শর্মা হলেন একজন নার্স। তাকেও আবারো আগের মতোই কাজ শুরু করতে হয়েছে। তবে জলজ্যান্ত মেয়ের এই অকাল মৃত্যু যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না শিখা দেবী। আর এটাই তো স্বাভাবিক। সন্তানরা যতই বড় হয়ে উঠুক না কেন বাবা-মায়ের কাছে কিন্তু তারা ছোটই থেকে যায়।

সম্প্রতি এই সমস্ত চর্চার মাঝেই তার ছোট মেয়ে ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর পর একটি অপূর্ণ ইচ্ছার কথা সকলের সামনে নিয়ে এসেছেন শিখা শর্মা। জানিয়েছেন মৃত্যুর ঠিক কয়েকদিন আগেই ঐন্দ্রিলা তার মাকে ফোন করে একটি ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। কি ছিল ঐন্দ্রিলার সেই শেষ ইচ্ছে? শিখা দেবী জানিয়েছিলেন তাকে বলেছিল যে মা অনেক শাড়ি হয়ে গিয়েছে, একটা ওয়ার্ডরোব সাজিয়ে দিও। যদিও শেষ পর্যন্ত আর শিখা দেবীর সেই ওয়ার্ডরোব শাড়িতে সাজানো হয়নি। তবে মেয়ের সেই অপূর্ণ ইচ্ছে পূরণ করতে এবার আবারো কলকাতার কুদঘাটের আবাসনে ফেরত যেতে চান শিখা দেবী।

জানা যাচ্ছে, মেয়ের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সেখানে তার সমস্ত শাড়ি সাজিয়ে ফিরবেন তার মা। কথাগুলো জানাতে গিয়ে রীতিমত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন শিখা শর্মা। অন্যদিকে ঐন্দ্রিলার প্রেমিক তথা বিশেষ বন্ধু সব্যসাচী চৌধুরী ও একই অবস্থা। অভিনেত্রীর মৃত্যুর পরের দিন থেকেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম সম্পূর্ণ ডিএক্টিভেট করে দিয়েছিলেন সব্যসাচী। এখনো পর্যন্ত তাকে ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে,প্রিয় মানুষের স্মৃতি নিয়েই একান্তে বাঁচতে চান অভিনেতা।

Back to top button