প্রতিদিন টবে থাকা গাছের গোড়ায় দিন খাবার কফি, মাত্র কয়েকদিনেই পাবেন দুর্দান্ত রেজাল্ট

নিজস্ব প্রতিবেদন: আপনি কি কফি খেতে ভালোবাসেন? এই শীতের সকালে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফির জন্য কি আপনার মন আনচান করে! আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র বাগান প্রেমী মানুষদের জন্য নয় সাথে সাথে কফি প্রেমী মানুষদের জন্যেও। কারণ আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা শেয়ার করে নেব কফির এমন কিছু গুনাগুন যা আপনার বাগানে থাকা গাছের যত্নে বিশাল সাহায্য করবে।

আজকাল অনেকেই বাড়িতে ছাদ বাগানের মধ্যে অথবা উঠানোর মধ্যে নানান ধরনের ফুল ফল বা সবজির চাষ করে থাকেন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা ছাড়া কিন্তু কখনোই এই গাছগুলো সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে না। আমাদের আশেপাশে বা ঘরেই এমন অনেক জিনিস রয়েছে যেগুলো দিয়েও কিন্তু গাছের পরিচর্যা সম্ভব। তার মধ্যেই উল্লেখযোগ্য হল কফি। চলুন জেনে নেওয়া যাক গাছে খাবার কফি দিলে কি হতে পারে!

আপনাদের অনেকের বাড়িতেই মরিচ কুমড়ো অথবা লাউ গাছ রয়েছে। অনেক সময় দেখবেন মরিচ গাছের পাতা কুঁকড়ে যায় বা কোনভাবেই গাছ আর বাঁচতে চায় না, ঠিক তেমনভাবেই কিন্তু লাউ বা কুমড়ো গাছে ফলন সঠিক সময়ে ধরে না। এই ধরনের সমস্ত সমস্যার সমাধান কিন্তু আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্ভব।

প্রথম পদ্ধতি:

একটা মিক্সিং বোল নিয়ে নিন এবং সঙ্গে নিয়ে নিন এক প্যাকেট কফি। তারপর আড়াইশো মিলি জলের মধ্যে এই কফির প্যাকেটটিকে গুলে ফেলুন। জল যেন একটু উষ্ণ গরম থাকে। এবার এটাকে মিক্সিং বোলের মধ্যে ঢেলে ফেলুন। আরো একটা পাত্র নিয়ে তাতে কিছু পরিমাণ জল দিয়ে দিন। এই জলের মধ্যে মিশিয়ে দিন কিছুটা পরিমাণ সর্ষের খোল এবং লাল সার (১ চামচ)।

তারপর সামান্য ডিমের খোসার গুঁড়ো যোগ করে এই মিশ্রণটাকে নাড়াচাড়া করে রেখে দিন। কিছুক্ষণ পর একটু গুলে নিয়ে এই সর্ষের খোলের দ্রবণটাকে কফির দ্রবণের মধ্যে মিশিয়ে দিন। দুটোই যদি ২৫০ মিলি পরিমাণে আপনি তৈরি করেন সেক্ষেত্রে কিন্তু হাফ লিটার দ্রবণ তৈরি হয়ে যাবে। ভালো করে চামচ দিয়ে নাড়াচাড়া করে ছয় ঘন্টা সময় পর্যন্ত এটাকে রেখে দিতে হবে।

এবার একটা মগের মধ্যে এক লিটার পরিমাণ জল নিয়ে নিন। এবার কফি এবং সর্ষের খোল দিয়ে যে মিশ্রণটা তৈরি করে রাখলেন সেটা থেকে ৫ চামচ এই জলে দেবেন। ভালোভাবে এবার জলের সাথে এই মিশ্রণটাকে গুলে নিন। কফি সরাসরি গাছে না দিয়ে যদি এভাবে আপনারা প্রয়োগ করেন তাহলে কিন্তু প্রচুর সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে সহজেই। লেবু এবং বেগুনের মতন গাছগুলিতে যদি আপনি গোড়ায় এই দ্রবণ প্রয়োগ করেন সরাসরি সেক্ষেত্রে কিন্তু প্রচুর ফলন আসবে। মিষ্টি কুমড়ো কাছে এই দ্রবণ প্রয়োগ করলে কিন্তু গাছে প্রচুর পুষ্টি আসবে এবং দ্রুত বৃদ্ধি হবে। লেবু গাছের গুটি ঝরার মতন সমস্যায় যারা ভোগে থাকেন তারাও কিন্তু এই দ্রবণের প্রয়োগে রেহাই পাবেন।

দ্বিতীয় পদ্ধতি:

বাড়িতে থাকা মরিচ গাছের পাতা যদি নিয়মিত কুঁকড়ে গিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই এই দ্বিতীয় পদ্ধতি আপনারা মনোযোগ সহকারে পড়ে ফেলুন। এর জন্য একটা মগের মধ্যে এক লিটার পরিমাণে জল নিয়ে নিতে হবে। তারপর এই জলের মধ্যে ‌ ২ চামচ থিওবিট যোগ করে দিন। ভালো করে মিশিয়ে এতে মার্শাল অর্থাৎ কার্বন সালফার যুক্ত একটি কীটনাশক যুক্ত করতে হবে। খুব সামান্য পরিমাণে এই মিশ্রণটি যোগ করে ভালোভাবে দ্রবণটি গুলে নেবেন। ভালো করে মিশিয়ে নেবার পরে একটা স্প্রে বোতলে ভরে খুব সহজেই কিন্তু মরিচ বা অন্যান্য গাছে আপনারা প্রয়োগ করতে পারেন। পাতা কোকড়ানো বা পাতা হলুদ হয়ে যাবার মতন সমস্যা এই দ্রবণের প্রয়োগে খুব সহজেই দূর হয়ে যাবে।

ভিডিওটি দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন- https://youtu.be/nGgMY-K0mTk

Back to top button