শীতের ঠাণ্ডায় খুব সহজ এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানিয়ে দেখুন সুস্বাদু পিয়াজকলি দিয়ে রুই মাছের ঝোল, নিমেষেই শেষ হবে একথালা ভাত

নিজস্ব প্রতিবেদন: মাছ এবং মাংসের বিভিন্ন রেসিপি কিন্তু আমাদের বাড়িতে প্রায় সময় বানানো হয়ে থাকে। তবে একঘেয়ে ভাবে না বানিয়ে এই রেসিপিগুলোকে কিন্তু একটু নতুন চেষ্টা করে তৈরি করা যেতে পারে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে দুটি রেসিপি শেয়ার করে নেব। শীতকালের দুপুরে গরম ভাতের সাথে আপনারা যদি এই দুটো রেসিপি বানিয়ে নেন তাহলে কিন্তু আর অন্য কোন খাবারের প্রয়োজন পড়বে না। এটি হলো পেঁয়াজকলি দিয়ে রুই মাছের রেসিপি এবং শিম ভর্তা। এই দুটি রেসিপি কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে এবং বানানোটা ও খুবই সহজ বলা যায়। চলুন কিভাবে তৈরি করবেন সেটা জেনে নেওয়া যাক।

মাছের ঝাল তৈরি করার জন্য আপনাদের প্রথম এই পেঁয়াজকলি গুলোকে সরু করে কেটে নিতে হবে। মটরশুঁটি গুলো কেউ কেটে ধুয়ে নেবেন। রুই মাছটাকেও সুন্দরভাবে কেটে নেবেন। যারা মাছ কাটার ঝামেলা নিতে চান না তারা কিন্তু বাজার থেকেও এটাকে কাটিয়ে নিয়ে আসতে পারেন। লবণ আর হলুদ গুঁড়ো ব্যবহার করে মাছটাকে ম্যারিনেট করে নিন। এবার কড়াইতে পরিমাণ মতো সর্ষের তেল দিয়ে আপনাদের মাছের পিস গুলো ভেজে নিতে হবে।

মাছ ভাজা হয়ে গেলে মাছের ঝাল রান্না করার জন্য কড়াইতে আরো কিছুটা পরিমাণ সরষের তেল দিয়ে দিন। যেহেতু পেঁয়াজকলি দিয়ে মাছের ঝাল করা হচ্ছে তাই অবশ্যই আপনারা কালোজিরা ফোড়ণ দেবেন। কালোজিরে, তেজপাতা ,শুকনো লঙ্কা আর চেরা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে দিন তেলের মধ্যে। একটু নাড়াচাড়া করে কেটে ধুয়ে রাখা পেঁয়াজকলি গুলো এতে যোগ করুন। কিছুটা পরিমাণ পেঁয়াজ কুচি ব্যবহার করে নাড়াচাড়া করতে থাকুন।

পেঁয়াজকলি আর পেঁয়াজ কুচি ভালোভাবে ভাজা হতে থাকুক। একটা পাত্রের মধ্যে আদা বাটা কাঁচা লঙ্কা বাটা আর শুকনো কাশ্মীরি লঙ্কার বাটা নিয়ে নিন। তার মধ্যে জিরেগুঁড়ো হলুদ গুঁড়ো আর সামান্য পরিমাণ জল যোগ করুন। সমস্ত মসলাগুলো একসাথে মিশিয়ে নিন। পেঁয়াজকলি আর পেয়াজ ভালোভাবে ভাজা হয়ে গেলে এর মধ্যে মসলার এই পেস্ট যোগ করে দিন।

টমেটো কুচি আর স্বাদমতো লবণ দিয়ে আবারো নাড়াচাড়া করতে থাকুন। একদম শেষে মটরশুটি যোগ করবেন যাতে এটা গলে না যায়। রুই মাছের মধ্যে যদি তেল থাকে সেটা কেউ এখানে দিয়ে দিতে পারেন তাহলে আরো খেতে ভালো লাগবে। মসলার সাথে মটরশুটি আর পেঁয়াজকলি ভালোভাবে কষানো হয়ে গেলে পরিমাণ মতো জল দিয়ে দিন।

ঝোল একটু ফুটতে শুরু করলে আগে থেকে ভেজে রাখা মাছগুলো এতে যোগ করবেন। দুই থেকে তিন মিনিট ভালো করে ফুটিয়ে এটাকে নামিয়ে নিলেই রান্না তৈরি হয়ে যাবে ‌। মাছের ঝালের এই রেসিপির মধ্যে সব শেষে কিছু ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিতে পারেন। এবার আসুন সিম ভর্তা রেসিপি জেনে নেওয়া যাক।

সিম ভর্তা তৈরি করার জন্য একটা কড়াইতে কিছুটা পরিমাণ জল দিয়ে সিম গুলোকে দিয়ে দিন। আগে অবশ্যই এর উপরের আর নিচের সুতোর মতো অংশটা কেটে নিতে ভুলবেন না। এখন ঢাকনা চাপা দিয়ে সিম ভাপানো হয়ে গেলে এটাকে অন্য পাত্রে তুলে ফেলুন। তারপর এখান থেকে অল্প করে শিম নিয়ে শিলনোড়ার সাহায্যে আস্তে আস্তে বেটে ফেলুন। রসুন কাঁচা লঙ্কা এবং ধনেপাতা একসঙ্গে দিয়ে আপনারা বেটে নেবেন।

কড়াইতে আবারো একটু সর্ষের তেল যোগ করে কালো জিরে ফোড়ণ দিয়ে দিন। সামান্য পরিমাণে পেঁয়াজ কুচি যোগ করে একটু ভাজা করে এই সিমের বাটা যোগ করে ফেলুন। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে নিন তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে সিম ভর্তা। গরম গরম ভাতের সাথে সকলকে শীতের দুপুরে এই রেসিপি দুটো পরিবেশন করুন।

Back to top button