জানেন মিঠুন চক্রবর্তীর প্রথম স্ত্রী আসলে কে? কি কারণে সংসার ভাঙলো তাদের? শুনলে অবাক হবেন আপনি

নিজস্ব প্রতিবেদন: মিঠুন চক্রবর্তী অভিনয় জগতের এমন একটা নাম যার প্রতিভা আর সংগ্রাম নিয়ে হয়তো কারুর মনে কোন সন্দেহ নেই। ১৯৭৬ সালের জুন মাসে মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ ছবি দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন মিঠুন। এই ছবির জন্য তিনি নিজের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছিলেন। এরপর তাহাদের কথা ও স্বামী বিবেকানন্দ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন মিঠুন। প্রায় ৪ দশক ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন এই অভিনেতা। এখনো পর্যন্ত ৩৭০ টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

তবে শুধু অভিনয় নয় পাশাপাশি তিনি একজন গায়ক, প্রযোজক, নৃত্যশিল্পী, সমাজকর্মী এবং রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য। যদিও আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনের আলোচ্য বিষয় মিঠুন চক্রবর্তীর প্রফেশনাল জীবন নয়। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা একঝলক উঁকি মারবো তার ব্যক্তিগত জীবনে। আপনারা সকলেই জানেন মিঠুন চক্রবর্তী ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কয়েকটি বিয়ে করেছেন। আজ আমরা ওনার প্রথম আর দ্বিতীয় স্ত্রীর সম্পর্কে আলোচনা করতে চলেছি।

অভিনয় জগতের একেবারে শুরুর দিকে সারিকা নামের এক অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী।। এই সম্পর্ক কিছুদিনের মধ্যে ভেঙে গেলে তার জীবনে আসে মডেল অভিনেত্রী হেলেনা লুক। সম্পর্কের কিছুদিনের মধ্যেই তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে নিয়তি অন্যভাবেই লেখা ছিল কারণ বিয়ের চার মাসের মাথাতেই তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর অভিনেতা বিয়ে করেন যোগিতা বালিকে। যোগিতা বালি নিজেও ছিলেন একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

যদিও হেলেনার সঙ্গে বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার কিছুদিন পরে একবার গুজব শোনা গিয়েছিল হেলেনা নাকি মিঠুনের কাছে ফেরত এসেছেন। কিন্তু এক সাক্ষাৎকারে হেলেনা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেন তার এমন কোন পরিকল্পনা নেই। পাশাপাশি তিনি এও বলেছিলেন যে, “প্রথমত আমাদের বিয়েটা না হলেই ভালো হতো। এরপরে নিজের ভুল বুঝতে পারি। ওর জীবন থেকে বেরিয়ে আসার বা বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তটা একান্তই আমার ছিল। আজ হয়তো মিঠুন একজন বড় স্টার কিন্তু তাতে কিছুই আসে যায় না আমার। ও যদি পৃথিবীর সব থেকে ধনী ব্যক্তি হয়ে যায় তাও আমি ওর কাছে কোনোভাবেই ফিরে যাব না। বিয়েটা আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো ছিল”।

এই সাক্ষাৎকারে যখন তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে হেলেনাকে প্রশ্ন করা হয় তিনি জানান, “ছোট থেকেই আমি খুব আদরে বড় হয়েছি তবে মিঠুনের সাথে বিয়ের পর আমি কিছুই পাইনি। সারাদিন আমাকে বাড়িতে একাই কাটাতে হতো। ওর সঙ্গে আমার মাত্র ৫ ঘন্টা দেখা হতো যেটা আমার একেবারেই অসহ্য ছিল। মিঠুন যখন আমাকে বলেছিল সে আমাকে ভালোবাসে আমি বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম ও শুধুমাত্র নিজেকে ছাড়া আর কাউকে ভালবাসতে জানেনা। তার ওপর ভীষণ সন্দেহবাতিক ছিল ওর”।

ঠিক এই কারণগুলোর জন্যই মতের অমিল হওয়ায় নাকি ভেঙ্গে গিয়েছিল তাদের বিয়ে। বিচ্ছেদের কিছুদিন পরেই ১৯৭৯ সালের জুলাই মাসের যোগিতার সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন মিঠুন। প্রথমদিকে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল এমনকি তাদের সন্তানও হয়। ১৯৮৫ সালে মিঠুনের জীবনে পা রাখেন শ্রীদেবী। শোনা যায় মিঠুন ও শ্রীদেবী নাকি লুকিয়ে বিয়েও করেছিলেন। কিন্তু পরে শ্রীদেবী বুঝতে পারেন মিঠুন কোনদিনই তার স্ত্রী যোগীতাকে ছাড়বেন না বা ওকে আইনত স্ত্রী বলে স্বীকার করবেন না।

কারণ সেই সময় মিঠুন চক্রবর্তীর সন্তানের মা হয়ে গিয়েছিলেন যোগিতা।তাই মিঠুন চক্রবর্তীর জীবন থেকে সরে যান শ্রীদেবী ‌। ১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুর কে বিয়ে করেন শ্রীদেবী। প্রতিবেদনটি এতদূর পর্যন্ত পড়ার পর আপনাদের কি মনে হয় মিঠুনের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সংসার ভাঙ্গার পিছনে আসল কারণ ঠিক কি ছিল! সত্যিই কি পর্দার মিঠুন চক্রবর্তী ব্যক্তিগত জীবনে এমনই একজন ব্যক্তিত্ব! এই বিষয়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত আমাদের সঙ্গে কমেন্ট বক্সে শেয়ার করে নিতে পারেন।

Back to top button