ছাদে বা উঠোনে স্ট্রবেরি গাছ লাগিয়ে করুন এই একটি ছোট্ট কাজ, অল্পদিনেই গাছ ভরে আসবে লাল স্ট্রবেরি

নিজস্ব প্রতিবেদন: সুমিষ্ট ফলগুলির মধ্যে অন্যতম হলো লিচু। অনেকেই এই ফলটি খেতে খুবই পছন্দ করে থাকেন। এই ফলের অনেক গুনাগুন রয়েছে। রক্তে চিনির গতিকে লিচু খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ফলে প্রতিদিন লিচু খেলে ওজন কমে যাবে। পাশাপাশি এই ফলের মধ্যে পলিফেনেলিক উপাদান রয়েছে। যা ব্রেস্ট, কোলন এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি খুব সহজেই যে কোন খাবার হজম করতে সাহায্য করে। এমনকি হাঁপানির সমস্যাতেও লিচু ম্যাজিকের মতন কাজ করে থাকে।

সাধারণত বাজার থেকে কিনে কমবেশি অনেকেই এই ফলটি খেয়ে থাকেন। তবে আপনারা কিন্তু খুব সহজেই বাড়িতে টবে এটি চাষ করে নিতে পারেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় গাছ খুব সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠলেও ফুল বা ফল সঠিকভাবে আসে না। আসলে সঠিক পরিচর্যার কারণেই এমনটা হয়ে থাকে। আজকে তাই আপনাদের সাথে এমন কিছু টিপস শেয়ার করে নেব যেগুলো ফলো করলে আপনারা খুব সহজেই গাছ ভর্তি লিচুর ফলন পাবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

১) লিচু গাছের জন্য ছয় থেকে আট ঘন্টার সূর্যালোক ভীষণভাবে প্রয়োজন। শুধুমাত্র পরিচর্যা করলেই হবে না যাতে সঠিকভাবে গাছ আলো পায় আপনাদের কিন্তু সেদিকেও নজর দিতে হবে। না হলে গাছের ভালো বৃদ্ধি হলেও ফুল বা ফল কিন্তু আসবে না।

২) মনে রাখবেন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল দিলে কিন্তু গাছে ফুল আসতে চায় না। গাছ ভালোভাবে বৃদ্ধি পায় এবং সতেজ অবস্থায় থাকে, তবে ফলন হয় না। সুতরাং যদি লিচু গাছের টবের মাটি ভেজা অবস্থায় থাকে তাহলে কখনোই কিন্তু জল প্রয়োগ করবেন না। মাটি পুরোপুরি শুকিয়ে আসলে তবেই জল দেবেন।

৩) অনেক সময় পোকামাকড়ের আক্রমণ বা রোগ ব্যাধি মাটির কাছাকাছি পাতাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ সৃষ্টি হয়। যার ফলে সম্পূর্ণ গাছটিতেই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। গাছ দুর্বল থাকলে কখনোই ফুল বা ফল দিতে পারবেনা। তাই আপনাকে করতে হবে মালচিং। অর্থাৎ আক্রান্ত পাতাগুলোকে কেটে ফেলতে। তারপর খড় বা বিচালির সাহায্য নিয়ে মাটি ঢেকে দিতে হবে। গাছের পাতা, ফুল বা ফলের সাথে মাটির যেন কোন সংস্পর্শ না থাকে। গাছ একটু বড় হলেই এই মালচিং করবেন আপনারা।

৪) লিচু গাছে প্রতি 15 দিন অন্তর আপনাদের দিতে হবে সর্ষের খোলের তরল সার। আরো 15 দিন অন্তর দিতে হবে বিভিন্ন সবজি বা ফলের খোসা ভেজানো সার। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই দুটো সার দিতে পারলে কিন্তু গাছে প্রচুর ফুল আসবে।

৫) লিচু গাছের রোগ প্রতিরোধ করার চেষ্টা আপনাদের অবশ্যই করতে হবে। তার জন্য এক লিটার জলের মধ্যে এক চামচ অর্থাৎ পাঁচ মিলি নিম তেল যোগ করে ফেলুন। পাশাপাশি এতে দিয়ে দিন হাফ চামচ অর্থাৎ 2 গ্রাম পরিমাণে ফাঙ্গাসাইড পাউডার। এটিকে বাংলায় বলা হয় ছত্রাকনাশক। ভালোভাবে মিশিয়ে এটাকে স্প্রে বোতলে ভরে ফেলুন। প্রতি সপ্তাহে গাছে একবার এটাকে স্প্রে করবেন। তাহলে দেখবেন গাছে আর কোন রকমের রোগ পোকার আক্রমণ হবে না। এই পাঁচটি বিষয় স্টেপ বাই স্টেপ মেনে চললেই কিন্তু অল্প দিনের মধ্যে আপনার লিচু গাছে ফলন ধরবে এবং সেগুলো খাওয়ার উপযোগী হয়ে যাবে।।

Back to top button