বাড়ির ছাদে বা উঠোনে বেগুন গাছ লাগিয়ে দিন এই একটিমাত্র ঘরোয়া উপকরণ, মাত্র ৩০ দিনেই ধরবে বড়ো বেগুন

নিজস্ব প্রতিবেদন: আজকাল কিন্তু বাড়ির মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ফল বা সবজির চাষবাস শুরু করেছেন। তবে প্রয়োজনীয় যত্ন এবং পরিচর্যা ছাড়া কোন চাষে কিন্তু ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয়। শীতকালীন উল্লেখযোগ্য সবজিগুলোর মধ্যে একেবারে উপরের তালিকায় রয়েছে বেগুন। এটি দিয়ে নানান ধরনের সুস্বাদু পদ তৈরি করা যেতে পারে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে এমন কিছু ম্যাজিক্যাল সারের টিপস শেয়ার করে নেব যাতে বেগুন গাছে মাত্র মাস খানেকের মধ্যেই দারুন ফলন ধরবে।।

সুতরাং আপনারা যারা বেগুন চাষের ব্যাপারে আগ্রহী তারা অবশ্যই আজকের এই প্রতিবেদন টি মিস করবেন না। চলুন আর দেরি না করে আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।বেগুন গাছে কিন্তু সার প্রয়োগের কিছু নিয়ম রয়েছে। প্রতিটা গাছের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।

সার প্রয়োগের আগে অবশ্যই আপনাদের গাছের গোড়ার মাটি একটু খুঁচিয়ে নিতে হবে। আসলে এই গাছের গোড়ায় অনেক সময় আগাছা জন্ম নেয় সেগুলোকে একটু তুলে নেওয়া ভালো। এরপর গাছের গোড়া থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে মাটিগুলোকে ফাঁক রেখে ছড়িয়ে দেবেন। এবার আপনাদের জানিয়ে দেবো ঠিক কি কি সার এই গেছে আপনারা প্রয়োগ করতে পারেন।

১) প্রথমেই বলব কম্পোস্ট বা গোবর সারের কথা।গাছের গোড়ায় এক থেকে দুই মুঠো আপনাদের এই সার প্রয়োগ করতে হবে। অনেকে কম্পোস্ট আর পচা গোবর সারের মধ্যে কোন পার্থক্য বোঝেন না তাদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি, এই দুটো কিন্তু একই। এই সার গাছে প্রয়োগ করলে তা কিন্তু প্রচুর বেগুন উৎপাদনের জন্য তৈরি হয়ে যাবে।

২) এবার আমরা বলব নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সারের কথা। প্রতিটি গাছে ১০ থেকে ২০ গ্রাম আপনাদের এই সার প্রয়োগ করতে হবে। গোবর সারের মতন এটা কেউ গাছের গোড়ার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেবেন।

৩)এবার আপনাদের বলব পটাশ বা MOP সারের কথা। এটাও মোটামুটি ২০ গ্রাম পর্যন্ত গাছে আপনাদের প্রয়োগ করতে হবে। এই সার কিন্তু গাছের ফুল আনতে ব্যাপক পরিমাণে সাহায্য করে থাকে।

৪) বেগুন গাছের বৃদ্ধি ভালো রাখার জন্য আপনাদের ডিএপি সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের ফুল ঝরে যাওয়া থেকে এটি রক্ষা করবে। প্রতি গাছে ২০ গ্রাম পরিমাণে এই সার প্রয়োগ করবেন।

গাছের বৃদ্ধিতে শুধুমাত্র সারের প্রয়োগ করলেই হবে না পাশাপাশি আরো কিছু পরিচর্যা করা অতি অবশ্যই প্রয়োজন। যেমন সর্বদা বিকেলের দিকে সার প্রয়োগের চেষ্টা করবেন কারণ দুপুরের দিকে প্রয়োগ করলে গাছ নেতিয়ে পড়তে পারে।। পাশাপাশি গাছের সার প্রয়োগের পরে পরিমাণ মতো জল আপনাদের দিতে হবে নয়তো এগুলো কাজ করবে না। বেগুন গাছে কোন সময় হলুদ পাতা খুব বেশি লক্ষ্য করা গেলে বুঝবেন নাইট্রোজেনের ঘাটতি হয়েছে অথবা কোন প্রকার আক্রমণ হয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন- https://youtu.be/dktqnpQc4rk

সে ক্ষেত্রে কিন্তু অবশ্যই গাছ থেকে এই হলুদ পাতাগুলোকে তুলে ফেলবেন। যদি কোন কারনে আপনাদের বাড়িতে থাকা বেগুন গাছ বেশি ঝাকরা না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই একেবারে উপরের ডগাটি কেটে ফেলবেন।সার প্রয়োগের কুড়ি থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যেই কিন্তু আপনারা হাতেনাতে ফলাফল দেখতে শুরু করবেন। গাছ কতটা সতেজ আর ঝাকড়া হওয়ার পাশাপাশি ফল হওয়ার জন্য তৈরি হয়ে গেছে আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন।

Back to top button