সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই এই ১৪টি নিয়ম মেনে দিন শিক্ষা, সন্তান হবে মানুষের মতো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদন: সন্তান জন্মের পরে পিতা-মাতার দায়িত্ব কিন্তু বহুগুণ বেড়ে যায়। কারণ সেই সন্তানকে কিভাবে লালন-পালন করা হবে এবং কিভাবে তাকে সঠিক শিক্ষা দিয়ে বড় করে তোলা হবে সেটাই কিন্তু সেই সময় মাতা পিতার সবথেকে বড় চিন্তা। তবে অনেক ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করে দেখবেন যে উপযুক্ত শিক্ষা অভিভাবকরা না দেওয়ায় একটা সময়ের পরে কিন্তু সন্তানদের মধ্যে নানান ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

আজকে এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তাই আপনাদের জন্য নিয়ে চলে এসেছি কিছু বিশেষ টিপস যার শিশুর লালন-পালনে আপনাদের ভালো রকমের সহায়তা করতে পারে। চলুন তাহলে আর সময় নষ্ট না করে আমার আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

সন্তান লালন পালন করার জন্য এবং তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ কিছু টিপস:

১) বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে টিভি এবং মোবাইল ফোনের মধ্যে কিন্তু শিশুরা অত্যন্ত বেশি রকমের সময় নষ্ট করে থাকে। অবশ্যই কিন্তু আপনারা ছোটবেলা থেকে খেয়াল রাখবেন যাতে শিশুর মধ্যে টিভি বা মোবাইলের নেশা বেশি রকমের বেড়ে না যায়। বাচ্চারা খাবার না খেলে অনেক ক্ষেত্রেই অভিভাবকেরা টিভি বা মোবাইল তাদের সামনে তুলে ধরেন। ভুল করেও কিন্তু এই কাজটা আর করবেন না। দিনে এক ঘন্টার বেশি সময় সামাজিক মাধ্যম বা টেলিভিশনের সাথে বেশি ব্যয় না করাই কিন্তু তাদের পক্ষে ভালো।

২) বাচ্চাকে ছোট থেকেই বই পড়তে দেবেন এবং অন্ততপক্ষে একপাতা তাকে সারাংশ লেখা অভ্যাস করাবেন যাতে লেখাপড়ার সময় তাদের কোন সমস্যা না হয়।

৩) অনেক অভিভাবকেরা মনে করেন খেলাধুলো বাচ্চাদের করতে দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু এটা একেবারেই ভুল। শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের জন্য দিনে অন্ততপক্ষে আধ ঘণ্টা সময় শারীরিক ব্যায়াম বা খেলাধুলার জন্য বাচ্চাদের দিয়ে দিন।।

৪) ছোটবেলা থেকেই তাদেরকে ভবিষ্যৎ জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করা এবং আদর্শ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে লেখা পড়তে দিন বা রচনা লিখতে দিন।

৫) যেকোনো রকমের দরকারে বা বিপদে যাতে সে পরিবারের পাশে থাকে এবং পরিবারকেও সে নিজের পাশে পায় এই দুই বিষয় তাদের কে উপযুক্ত জ্ঞান দেবেন এবং ভালো রকম ভাবে শিক্ষা দেবেন।।

৬) শিশুকে সমাজসেবা মূলক কাজ বা জনহিতকর কাজ সম্পর্কে জানাবেন এবং চেষ্টা করবেন যাতে ছোট থেকেই সে এই সমস্ত কাজ সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করতে পারে ‌।

৭) কখনোই শিশুকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করতে দেবেন না বরং সেই জায়গায় তাকে অর্থ সঞ্চয় করতে শেখান।।

৮) শিশুকে প্রতি সপ্তাহের, মাসের, বাৎসরিক ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করা ও নিয়মিত তার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা শেখান। এটি তাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য তাড়া করতে শেখাবে।

৯) কোন মানুষ তার উপকার করলে তাকে সর্বদা তাকে ধন্যবাদ দিতে শেখাবেন এতে সে একটা সুশিক্ষা পাবে।।

১০) একই ভুল যাতে শিশু বারবার না করে সেদিকে বিশেষ ভাবে নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি কোন ভুল করার পর যাতে শিশু হতাশ না হয়ে পড়ে সেদিকে ও বিশেষ ধ্যান দিন।

১১) অনেক বাচ্চাদের মধ্যেই কিন্তু ছোট থেকে অত্যন্ত বেশি রকমের রাগ আর জিদ লক্ষ্য করা যায়। কিভাবে এই দুটি জিনিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তা কিন্তু শিশুকে ছোট থেকেই শেখাতে হবে।

১২) বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কে শিশুকে ছোট থেকেই শিক্ষা দেবেন। অর্থ কে কিভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে সে সম্পর্কে তার মনে একটা স্পষ্ট ধারণা তৈরি করে ফেলুন।

১৩) শিশুর সঙ্গে কোনো কথা বলতে হলে একেবারে মুখোমুখি বসে কথা বলুন। এতে সে নিজেদের সমস্যা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারবে। কোন রকমের ফোন বা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করবেন না।

১৪) সময় জ্ঞান সম্পর্কে শিশুকে উপযুক্ত শিক্ষা দিন এবং কিভাবে সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার করা যেতে পারে সেই সম্পর্কেও তাকে একটা দৈনন্দিন তালিকা তৈরি করে দিন। রুটিন অনুযায়ী কাজ করলে যে কোন জিনিসই কিন্তু শিশুদের জন্য অত্যন্ত সহজ হবে।

Back to top button