একেবারে সামান্য ব্যয়ে জাহাজে করে এবার খুবই অল্প সময়ে ঘুরে আসুন কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর, রইলো বিস্তারিত

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভ্রমনপিপাসু বাঙালির জন্য ঘরে আটকে থাকা কিন্তু একেবারে সহজসাধ্য কাজ নয়। লক্ষ্য করে দেখবেন, একটু লম্বা ছুটি পেলেই কিন্তু বাঙালি বেরিয়ে পড়তে অত্যন্ত ভালোবাসে। তবে কাছেপিঠে ভ্রমণের মধ্যে যে জায়গাটার কথা আমাদের সকলের মাথায় আসে সেটি হল দীঘা বা মন্দারমনি।। কিন্তু আজ এই চিড়া পরিচিত ছন্দের বাইরে বেরিয়ে আমরা আপনাদের নিয়ে যাব কলকাতা থেকে ক্রুজ শিপে করে গঙ্গাসাগর।

এখানকার কপিলমুনি আশ্রম নিয়ে আপনারা কম-বেশি সকলেই কিন্তু পরিচিত রয়েছেন। তবে কিভাবে কোথা থেকে যেতে হবে এবং দর্শন করার মতন এখানে কি কি রয়েছে সেই সম্পর্কে আজ আমরা এই প্রতিবেদনে আপনাদের বিস্তারিত তথ্য যেতে চলেছি। যদি আপনিও ভ্রমণ পিপাসু বাঙালির একজন হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমাদের এই প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ুন এবং কমেন্ট বক্সে নিজেদের মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করে নিন।।

আজ আমরা গঙ্গাসাগরে যে ক্রুজটি করে যাওয়ার কথা বলব সেটি গত ৬ই মার্চ থেকে চালু করা হয়েছে। এতে দুটি ক্লাস রয়েছে। সামনের দিকে রয়েছে প্রিমিয়াম ক্লাস এবং পেছনের দিকটি হচ্ছে ইকোনমিক ক্লাস। এই জাহাজের টিকিট আপনারা খুব সহজেই কিন্তু অনলাইনে পেয়ে যাবেন। লঞ্চের বাঁ দিকে ঢুকেই রয়েছে ইকোনমিক ক্লাস যার প্রতি ভাড়া ১হাজার টাকা। অন্যদিকে প্রিমিয়াম ক্লাসের ভাড়া হচ্ছে ১৪০০ টাকা। প্রিমিয়াম ক্লাসের আসন সংখ্যা হচ্ছে ৫৫। অন্যদিকে ইকোনমিক ক্লাসে রয়েছে ১০১ টি আসন।

মাঝখানে রয়েছে যাওয়ার রাস্তা এবং ডান দিকের রয়েছে চারটা সিট আর বামদিকে তিনটে সিট। এই সম্পূর্ণ জাহাজের একেবারে দারুণ সিট হচ্ছে প্রিমিয়াম ক্লাসের প্রথম সাতটি সিট। যদি আপনি প্রিমিয়াম ক্লাস বুক করে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনারা কিন্তু সহজেই ব্রেকফাস্ট পেয়ে যাবেন। তবে ইকোনমিক ক্লাসের ক্ষেত্রে আপনাদের ব্রেকফাস্ট কিনে খেতে হবে। নন ভেজে আপনি দুটো ফিস কাটলেট পাবেন ১২০ টাকা। ওদিকে ভেজ হিসেবে আপনি ভেজ কাটলেট পাবেন ৮০ টাকা। খরচা একটু বেশি হলেও সপ্তাহ শেষে যদি আপনারা গঙ্গাসাগর ভুবনে যেতে চান এটা কিন্তু একটা দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারে।।

ভিডিওটি দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন-https://youtu.be/1o9AJzyxfeE

এই জাহাজের মধ্যে বাথরুমে কিন্তু আপনাদের কোন সমস্যা হবে না সুতরাং নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে পারেন। ব্রেকফাস্টের পর এই জাহাজে প্রত্যেক যাত্রীকেই কিন্তু বিনামূল্যে চা পরিবেশন করা হয়ে থাকে।চাইলে আপনারা কিন্তু জাহাজের উপরের ডেকে বসেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। তবে খুব বেশিক্ষণ আপনারা এখানে থাকতে পারবেন না। ব্যাস এভাবেই খুব সহজে আপনারা গঙ্গাসাগর পৌঁছে কপিলমুনির আশ্রমে পুজো দিয়ে ঠিক একদিনের মধ্যেই আবার এই জাহাজে করেই ফেরত চলে আসতে পারবেন। সুতরাং একদিনের পিকনিক হিসেবে যারা ভ্রমণের সুযোগ আর হাতছাড়া করবেন না। চলুন না হয় একদিন একটু অন্যভাবে ঘুরে আসা যাক গঙ্গাসাগর।

Back to top button