একমাসের মধ্যে ২০ কেজি ওজন কমালেন যুবতী! জানেন এই শীতে কি খেয়ে এতো দ্রুত ওজন কমালেন তিনি?

নিজস্ব প্রতিবেদন: দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের মধ্যে শরীরের যত্ন নেওয়াটাও কিন্তু বিশেষভাবে প্রয়োজন। কারণ সঠিকভাবে যদি আপনারা শরীরের যত্ন না নিতে পারেন সে ক্ষেত্রে একটা সময় পড়ে কিন্তু ধীরে ধীরে আপনি নিজেই অসুস্থতার মুখোমুখি হবেন। বহু মানুষ এমন রয়েছেন যারা হয়তো অপুষ্টিতে ভুগে থাকেন যার ফলস্বরূপ দীর্ঘ সময় পরেও কিন্তু ওজন বৃদ্ধি হয় না। আবার এমন অনেকেই রয়েছেন যাদের অল্প কোন খাবার খেলে কিন্তু বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা যায় এবং ওজন বেড়ে যায়।

বিশেষ করে শীতকালে কখন কি খাওয়া হবে সেটা নিয়ে কিন্তু প্রায় সময় নানান ধরনের চিন্তায় পড়তে হয়। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তাই আপনাদের জন্য একটি বিশেষ ডায়েট চার্ট শেয়ার করে নিতে চলেছি। যারা নতুন ডায়েট শুরু করেছেন তারা সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত কি কি খেতে পারেন সেই সম্পর্কেও আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। সুতরাং শরীরকে সুস্থ রাখতে অবশ্যই আমাদের এই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ে নিন।

ঘুম থেকে ওঠার পরে:
সকালবেলায় ঘুম থেকে ওঠার পরেই আপনাদের একটা পানীয় গ্রহণ করতে হবে। এটি তৈরি করার জন্য গ্যাসে একটা পাত্র বসিয়ে তাতে কিছুটা পরিমাণ জল দিয়ে দিন।। এবার এই জলের মধ্যে সামান্য জিরে আর একটু কাঁচা হলুদ যোগ করুন। চার থেকে পাঁচ মিনিট ফোটানোর পরে এটাকে গ্যাস থেকে নামিয়ে নিন এবং ছাকনির সাহায্যে ছেঁকে নিলেই গ্রহণের জন্য তৈরি হয়ে যাবে। চাইলে আপনারা এই পানীয়র সাথে লেবু যোগ করে দিতে পারেন। এই পানীয় গ্রহণ করার পরে সকালের দিকে যদি পারেন একটু ব্যায়াম করে নেবেন। যদি বাইরে কোথাও যেতে না পারেন সে ক্ষেত্রে ঘরে বসেই কিন্তু শরীর চর্চা করা যেতে পারে।

সকালের জলখাবার:

সকালের জলখাবার তৈরি করার জন্য একটা প্লেটের মধ্যে কিছুটা পরিমাণে গাজর কুচি, শসা কুচি, টমেটো কুচি, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা লঙ্কা কুচি এবং ধনে পাতা কুচি নিয়ে নিতে হবে। একটু ছোলা আর লেবুর রস যোগ করে দেবেন এর মধ্যে। তারপর মিশিয়ে নেবেন হিমালয়ান পিংক সল্ট। একটু কাঁচা সরষের তেল ছড়িয়ে খুব সহজেই এটাকে আপনারা জলখাবার হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু জলখাবার গ্রহণ করার পরেও সকাল দশটা এগারোটার দিকে খুব বেশি রকমের খিদে পেয়ে থাকে। ডায়েট চলাকালীন যদি এরকম খিদে পায় সেক্ষেত্রে আপনারা যে কোন ফল যেমন কলা, আপেল অথবা পেঁপে গ্রহণ করতে পারেন।

দুপুরের লাঞ্চ:

শীতকালে প্রচুর পরিমাণে সবজির সমাহার দেখা যায় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পালং শাক।। আপনারা চেষ্টা করবেন নিজেদের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে এই পালং শাক রাখার। দুপুরের খাবার হিসেবে আপনারা সাধারণ ডাল ভাত সবজির সাথে পছন্দ মতন মাছ বা অন্য কিছু গ্রহণ করতে পারেন। মাছের মধ্যে বোয়াল বা ইলিশ জাতীয় মাছ আপনারা খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে সয়াবিন তেলের খুব বেশি ব্যবহার রাখবেন না।

যারা নতুন ডায়েট করছেন তারা কিন্তু চিরে মুড়ি বা মাটির নিচে কোন সবজি চট করে গ্রহণ না করাটাই ভালো। মনে রাখবেন সঠিকভাবে যদি আপনারা ডায়েট করেন তাহলে কিন্তু খুব সহজেই আপনাদের ওজন কমে যাবে এবং সেটা ধরে থাকবে। শুরুতেই বলেছিলাম যে পালং শাক একটু শীতের সময় বেশি খেতে কারণ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। দুপুরের লাঞ্চ হয়ে যাওয়ার পরে আপনারা হালকা কোন টক ফল যেমন পেয়ারা গ্রহণ করতে পারেন।

রাতের ডিনার:

রাত্রি বেলায় সাধারণত একটু হালকা খাবার খেতে পছন্দ করে থাকেন সকলে। বিশেষ করে যদি আপনি ডায়েট করেন তাহলে তো এই ব্যাপারটা আরও বেশি ভাবে আপনাদের নজরে রাখতে হবে। রাতের খাবার হিসেবে শীতকালীন বিভিন্ন সবজি যেমন ফুলকপি, গাজর শাখ ইত্যাদি ব্যবহার করে আপনারা তরকারি তৈরি করে নিতে পারেন। সাথে একটি ডিম সিদ্ধ বা শসা স্যালাড হিসেবে খেতে পারেন।

যাদের ভাত এবং রুটি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে রাতে তাদের কিন্তু ডায়েট চলাকালীন এই অভ্যাস কিছুটা হলেও কমিয়ে দিতে হবে নয়তো সমস্যায় করবেন।। এই টিপসগুলি মেনে চলা ছাড়াও পরিমাণ মতন ঘুম আর জল খাওয়া আপনারা বজায় রাখবেন তাহলেই কিন্তু দেখবেন খুব সহজেই আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে আর কোন সমস্যাও হবে না।

Back to top button